
রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ভরা এক রাতে বার্সেলোনা-কে হারিয়ে নয়, বরং দুই লেগের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ফিরতি লেগে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেলেও মোট ৩-২ ব্যবধানে শেষ হাসি হেসেছে দিয়েগো সিমিওন-এর দল।
ঘরের মাঠে প্রথম লেগে গোলশূন্য ড্র করাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় বার্সার জন্য। ফিরতি লেগে শুরুটা দারুণ করে তারা। ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যেই লামাইন ইয়ামাল ও ফেরান তোরেস-এর গোলে সমতায় ফেরে কাতালানরা।
তবে ম্যাচের ৩১ মিনিটে অ্যাডেমোলা লুকম্যান-এর গোল অ্যাতলেটিকোকে আবারও এগিয়ে দেয় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে আসে। এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল পায়নি বার্সা।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা বাড়ে আরও। নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে গিয়ে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখেন, ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সাকে। অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গোলটি আর করতে পারেনি তারা।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল অ্যাতলেটিকো। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং সিপি।
অন্য ম্যাচে অ্যানফিল্ডে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন লিভারপুলকে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা।
ম্যাচের নায়ক ওউসমান ডেম্বেলে, যিনি জোড়া গোল করে পিএসজিকে জয় এনে দেন। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হলেও দ্বিতীয়ার্ধে তার গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
লিভারপুলের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন হুগো একিতিকে, যা তার মৌসুম এবং আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ সালাহ-এর জন্য এটি হয়ে থাকতে পারে লিভারপুলের হয়ে শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ-যা শেষ হলো বিষাদে।
সেমিফাইনালে পিএসজির প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা রিয়াল মাদ্রিদ।
শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এনরিকে-এর দল, টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন এখন আরও উজ্জ্বল।



