
ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক দলের ওপর চাপ সবসময়ই একটু বেশি থাকে। সমর্থকদের প্রত্যাশা, নিজেদের মাঠে আত্মবিশ্বাসী সূচনা এবং টুর্নামেন্টের শুরুতেই ছন্দে ফেরার লক্ষ্য সব মিলিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ হয়ে ওঠে বিশেষ গুরুত্বের। তবে ইতিহাস বলছে, এই চাপ সামলাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে আয়োজক দেশগুলো।
১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২৩টি স্বাগতিক দলের মধ্যে ১৬টি জয় পেয়েছে, ৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং মাত্র একবার হেরেছে আয়োজক দেশ। এই ম্যাচগুলোতে স্বাগতিকরা মোট ৫১টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে ১৬টি গোল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী জয়গুলোর একটি আসে ১৯৩৪ সালে, যখন ইতালি ৭-১ ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারায়। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়া সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল।
তবে একমাত্র ব্যতিক্রম ২০২২ বিশ্বকাপ। কাতার উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পায়।
১৯৩০ সালে উরুগুয়ে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিকদের জয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ইতালি, ফ্রান্স, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন ও চিলি নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায়। ১৯৩০ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত টানা সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ী হয়েছিল আয়োজকরা।
তবে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সময়টা ছিল কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবলের। ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে এবং মেক্সিকো-সোভিয়েত ইউনিয়নের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। পরে পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনা আবার জয় তুলে নেয়।
আধুনিক যুগেও স্বাগতিকদের আধিপত্য অব্যাহত ছিল। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ গোলে হারায়। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া দু’দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকে। ২০০৬ সালে জার্মানি কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল জয় পায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে, আর ২০১৮ সালে রাশিয়া বড় জয় তুলে নেয় সৌদি আরবের বিপক্ষে।
সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের মাঠে স্বাগতিকদের হারানো সবসময়ই কঠিন কাজ। ২৩ আসরে মাত্র একবার হার এই পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।