
ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন রেকর্ডের নতুন সংজ্ঞা লিখেই চলেছেন। সোমবার (২৩ জুন) টেক্সাসে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মেসির অসাধারণ ব্যক্তিগত অর্জন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে এক ম্যাচেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের চারটি নতুন বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে।

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে থাকা মেসি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি প্রথমে মিরোস্লাভ ক্লোসা-র ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে পুরুষ বিশ্বকাপের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এরপর ১৮তম গোলের মাধ্যমে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে যান। এতে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার মার্তা-র ১৭ গোলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম জয়। এর ফলে তিনি আবারও ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন। ক্লোসার বিশ্বকাপ জয় ছিল ১৭টি।
অস্ট্রিয়া ম্যাচে মাঠে নামার মাধ্যমে মেসির বিশ্বকাপ ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। এর ফলে তিনি আগেই ভাঙা লোথার ম্যাথাউস-এর রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন এবং বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন।
চতুর্থ রেকর্ডটি এসেছে মাঠে কাটানো সময়ের হিসাবে। অস্ট্রিয়া ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে মেসির মোট খেলার সময় দাঁড়িয়েছে ২,৪৮৯ মিনিট। এতে তিনি ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি-র ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডকে অনেক দূরে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সের কাছাকাছি এসেও মেসি যেন থামার নাম নিচ্ছেন না। গোল, জয়, ম্যাচ সংখ্যা কিংবা মাঠে কাটানো সময়—বিশ্বকাপের ইতিহাসের একের পর এক শিখর এখন তার দখলে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই আবারও প্রমাণিত হলো, রেকর্ড ভাঙা যেন মেসির জন্য প্রতিদিনের এক স্বাভাবিক ঘটনা।