
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তবে এই ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, এটি লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও এক বিশেষ অধ্যায়। ২০৬তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামলেও এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রোববার (১২ জুলাই) অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ ছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইসদের লক্ষ্য করে মাত্র দুটি শট রাখতে পেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
আগামী বুধবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।
দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়নি মেসির। ২০০৫ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তবে জাতীয় দলে অভিষেকের পর লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না তরুণ মেসি।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল ২০০২ সালের আসরের গ্রুপ পর্বে।
তবে এই দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল।
সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় লিখতে এবার মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত আর্জেন্টাইন মহাতারকা।