ফুটবল
প্রধান খবর

বিশ্বকাপের ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ জিতলেন কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাব্রাল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘হুন্দাই গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার জিতেছেন কেপ ভার্দের ফুটবলার সিডনি লোপেস কাব্রাল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে করা তার দুর্দান্ত গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

ম্যাচের আগে লোপেস কাব্রাল বলেছিলেন, ‘আমি আশা করছি, মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলতে পারব।’ তবে শেষ পর্যন্ত শুধু লিওনেল মেসির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোই নয়, নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে পুরো ফুটবল বিশ্বের নজরও কাড়েন তিনি।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেপ ভার্দে যখন লড়াই করছিল, তখন অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন লোপেস কাব্রাল। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজের গোলপোস্টের ওপরের কোণে। তার সেই গোলে ম্যাচের স্কোরলাইন হয় ২-২।

যদিও শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দে ৩-২ গোলে হেরে যায়, তবু লোপেস কাব্রালের গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোর গোলকে পেছনে ফেলেছেন। এর আগে এই সম্মান জিতেছেন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেঞ্জামিন প্যাভার্ড ও রিচার্লিসনের মতো তারকারা।

পুরস্কার জয়ের পর লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পার হওয়ার পর আমি একটু জায়গা দেখতে পাই এবং মনে হলো, চেষ্টা করে দেখি। আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। আমি ওপরের কোণ লক্ষ্য করেছিলাম এবং সেভাবেই বলটি মেরেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বল যখন গোলের ওপরের কোণের দিকে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, আমি আসলে কী করে ফেললাম! আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে দেখি, সবাই চিৎকার করছে, মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে গেছে।’

গোল উদযাপনের মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তে কিছু না ভেবেই দৌড় শুরু করেছিলাম। পরে মনে হলো, আমি বিশ্বকাপে গোল করেছি। সবাই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপে গোল করার। কিন্তু এত বড় মঞ্চে, এত বড় একটি দলের বিপক্ষে এমন গোল করা অবিশ্বাস্য অনুভূতি।’

তবে আনন্দের সেই মুহূর্তে ঘটে যায় আরেক আবেগঘন ঘটনা। স্টেডিয়ামে উপস্থিত তার মা তেরেসা গোলটি দেখে আবেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি আমার মা ও বান্ধবীকে বলেছিলাম, গোল করলে আমি তাদের কাছে ছুটে যাব। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মা কাঁদছেন। তিনি বুঝতেই পারেননি যে আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সবাই তখন তাকে সামলাতে ব্যস্ত ছিল, কারণ গোলের পর তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।’

তিনি জানান, ম্যাচের পর ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা মার্সেলো তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে তিনি লোপেস কাব্রালের গোলকেই ভোট দিয়েছেন।

এ নিয়ে লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘মার্সেলো আমার অন্যতম বড় আদর্শ। তিনি যখন বললেন যে আমার গোলকে সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

লোপেস কাব্রালের উত্থানের গল্পও অনুপ্রেরণার। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ফুটবল খেলতেন। সে সময় তার থাকার ঘরে পর্দার পরিবর্তে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো।

সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে এসে এখন তিনি জিতেছেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মান। তার এই যাত্রা যেন প্রমাণ করে-ফুটবলে অসম্ভব বলে সত্যিই কিছু নেই।

তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button