জুমার দিনে যে ১০টি আমল করবেন

ইসলামি সংস্কৃতিতে জুমার দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি শুধু একটি ছুটির দিন নয়; বরং আত্মিক জাগরণ, ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর রহমত লাভের বিশেষ সুযোগ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে বেচাকেনা ও দুনিয়ার কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হতে। নামাজ শেষ হলে জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার পাশাপাশি বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করতে বলা হয়েছে। (সুরা জুমআ, আয়াত: ৯-১০)
জুমার দিনকে ইবাদতে পরিপূর্ণ করতে বিশেষ কিছু আমল করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি হলো-
১. নখ কাটা ও পরিচ্ছন্ন হওয়া
জুমার দিনের প্রস্তুতি শারীরিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে শুরু করা উত্তম। নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা ও পরিপাটি থাকা ফিতরাতের পরিচ্ছন্নতার অন্তর্ভুক্ত। (সহিহ বুখারি: ৫৮৮৯)
২. ভালোভাবে গোসল করা
জুমার নামাজের আগে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন, কেউ জুমার নামাজে আসতে চাইলে সে যেন গোসল করে নেয়। (সহিহ মুসলিম: ৮৪৪)
গোসলের মাধ্যমে শরীর সতেজ ও পরিচ্ছন্ন হয় এবং ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা যায়।
৩. পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার
জুমার দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা উত্তম পোশাক পরা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম আমল। এ বিষয়ে সহিহ বুখারির ৮৮০ নম্বর হাদিসে নির্দেশনা এসেছে।
৪. সুরা কাহফ পাঠ করা
জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। (মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩৩৯২)
৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি এবং এ দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)
৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া
জুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি ফজিলত রয়েছে। হাদিসে আগেভাগে মসজিদে আসার বিভিন্ন মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৮৮১)
ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা আগমনকারীদের নাম লেখা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসেন।
৭. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া
সম্ভব হলে মসজিদে হেঁটে যাওয়া উত্তম। হাদিসে মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সওয়াব এবং গুনাহ মাফের কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ৬৬৬)
৮. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা
ইমামের খুতবা চলাকালে নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শোনা উচিত। এ সময় কথা বলা কিংবা অন্যকে চুপ করতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, খুতবার সময় কাউকে ‘চুপ থাকো’ বললেও অনর্থক কথা বলা হয়। (সহিহ বুখারি: ৯৩৪)
৯. যথানিয়মে জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন-
“হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও।”
-সুরা জুমআ, আয়াত: ৯
তাই যথাযথ গুরুত্ব ও মনোযোগের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা উচিত।
১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খোঁজা
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার কল্যাণকর দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। বিভিন্ন বর্ণনার ভিত্তিতে অনেক আলেম আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়কে এ বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি: ৯৩৫)
অন্য বর্ণনায় এ সময়কে আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)
তাই আসরের পর বেশি বেশি ইস্তিগফার, দরুদ ও দোয়া করা যেতে পারে।
জুমার দিন হোক ইবাদত, পরিচ্ছন্নতা, দরুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় পরিপূর্ণ।

