
গ্যাস বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে গেলেও স্থানীয় মানুষই পর্যাপ্ত গ্যাস পান না।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর অন্তর্গত আশুগঞ্জ একটি শিল্পনগরী। সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, চালকল, মিল, ফ্যাক্টরি ও বন্দর রয়েছে। তবুও এলাকার মানুষ গ্যাস সংকটে ভুগছেন।
তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত এ ক্ষেত্র থেকে বর্তমানে ২২টি কূপের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য জানান, ১৯৯১ সালে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। শুরুতে গ্রাহক ছিল এক হাজার, বর্তমানে কাগজে-কলমে পাঁচ হাজার। অবৈধ সংযোগসহ প্রকৃত সংখ্যা ৮ থেকে ৯ হাজার হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না, চুলা মিটমিট করে জ্বলে। পরে কিছু সময় গ্যাস এলেও আবার রাত পর্যন্ত থাকে না।
বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড-এর স্থানীয় কার্যালয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, লোকবলের অভাবসহ নানা সংকটে পুরোপুরি তদারকি সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ হলেও অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় এখনো কিছু বাড়িতে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আবার বৈধ গ্রাহকেরাও গ্যাস পাচ্ছেন না।
রুমিন ফারহানা বলেন, এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম থাকলেও বাস্তবে বেশি দামে কিনতে হয়। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনেক পরিবারের জন্য গ্যাসই রান্নার প্রধান ভরসা।
তিনি দাবি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে দিতে হবে, এরপর দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ করা হোক।
তিনি আরও বলেন, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপে খনন কাজ চলছে। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ওই গ্যাস প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: টিবিএস নিউজ



