
নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফতেহ আলী সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পূর্ব বগুড়ার প্রায় ১০ লাখ মানুষ। করতোয়া নদীর উপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে বর্তমানে ছোট যানবাহন ও পথচারীরা সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলেও রাতে ঝুঁকি বাড়ছে কয়েকগুণ।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দেড় মাসের মধ্যে সেতুর পুরো কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে বাকি অংশের কাজ আবার শুরু হয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সেতু পার হতে গিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফরহাদ (২২) নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায়ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ৪৮ বছর ব্যবহারের পর পিলার ও পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের আগস্টে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
নতুন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই নকশা ও বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার এবং প্রস্থ ১২ দশমিক ৩ মিটার নির্ধারণ করা হয়, যার দুই পাশে ২ দশমিক ৫ মিটার করে ফুটপাত রাখা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি টাকা।
মেসার্স জামিল ইকবাল-এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি করা হলেও নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ হয়নি।
বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেতুর রেলিং, লাইটিংসহ সৌন্দর্যায়নের কাজ এখনো বাকি। একই সঙ্গে সেতুর ওপর নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় এবং ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ঠিকাদারের কিছু গাফিলতির কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে সেতুটি জনসাধারণের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



