বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

১৯ বছর আগে ফ্রান্সফেরত প্রত্নবস্তু আসল নাকি রেপ্লিকা, যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৭ সালে প্রদর্শনীর জন্য বগুড়ার মহাস্থানগড় জাদুঘর থেকে ফ্রান্সে পাঠানো প্রত্ননিদর্শনগুলো আসল অবস্থায় ফেরত এসেছে নাকি রেপ্লিকা দিয়ে বদলে দেওয়া হয়েছে তা যাচাইয়ে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টি উত্থাপন করেন। সভায় কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে প্রদর্শনীর জন্য মহাস্থানগড় জাদুঘর থেকে ৪৭টি প্রত্নবস্তুসহ দেশের বিভিন্ন জাদুঘরের আরও কিছু প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সের গীমে মিউজিয়াম-এ পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী শেষে এসব নিদর্শন দেশে ফেরত আনা হয়। তবে ফেরত আসা প্রত্নবস্তুগুলো আসল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৯ মে ফ্রান্স দূতাবাস বাংলাদেশের প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রত্ননিদর্শন বাছাইয়ে কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রদর্শনীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর ও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের সঙ্গে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর প্রত্নবস্তু ফ্রান্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রথম দফায় মহাস্থানগড় জাদুঘরসহ দেশের কয়েকটি জাদুঘর থেকে প্রত্নবস্তু ফ্রান্সে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফায় একটি মূর্তি বিমানবন্দর থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনীর চুক্তি বাতিল করা হয়। পরে প্রত্নবস্তুগুলো দেশে ফেরত আনা হলেও সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা তা আজও যাচাই করা হয়নি।”

জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

মহাস্থানগড় জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রান্সে প্রদর্শনের জন্য পাঠানো প্রত্নবস্তুগুলো দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এর কিছু জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং কিছু স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে। সব প্রত্নবস্তু রেজিস্টারভুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, র‌্যাব-১২, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও মহাস্থানগড় জাদুঘরের প্রতিনিধিদের সদস্য করা হয়েছে। কাস্টোডিয়ানকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button