ঈদে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে স্বস্তি-শঙ্কা দুটোই, ভোগান্তির কেন্দ্র হতে পারে বগুড়া বাইপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো মানুষ রাজধানী ছেড়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ফিরবেন। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ঈদযাত্রায় বড় শঙ্কার জায়গা হয়ে উঠতে পারে বগুড়া অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সারাদেশে ৯৪টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের পাশাপাশি বগুড়া বাইপাস, বনানী গোলচত্বর ও শাজাহানপুরের নয়মাইল হাট এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর আংশিক খুলে দেওয়ায় যান চলাচলে কিছুটা স্বস্তির আশা করা হচ্ছে। তবে হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া অংশে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বগুড়া বাইপাস ও বনানী এলাকায়।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক জানান, মহাসড়কে বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল হাট এলাকায় চার লেন সড়ক কিছুটা সরু হওয়ায় সেখানে ধীরগতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, যানবাহন উল্টো পথে চলাচল না করলে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বগুড়া রিজিয়নে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব ও জেলা পুলিশের চার শতাধিক সদস্য মাঠে কাজ করছেন। হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল, মোবাইল ওয়ার্কশপ ও জরুরি জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বগুড়া সার্কেলের পাঁচ জেলায় মহাসড়কের পাশে ১৮টি পশুর হাট বসছে। এসব হাটে পশু পারাপার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এদিকে ঈদ সামনে রেখে বগুড়া অঞ্চলে মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী পশুর হাট বসার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া অংশে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গ রুটে বেশ কিছু উন্নয়ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জ অংশে ১১টি উড়ালসেতু নির্মাণ ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়ক চালু হওয়ায় যাত্রা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। ফলে এবার যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে দীর্ঘ যানজট না থাকলেও ঈদের শেষ মুহূর্তে বগুড়া অঞ্চলে চাপ বাড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৬৫৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। আগামী কয়েক দিনে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবারের ঈদযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, পশুর হাট, অসমাপ্ত সংস্কারকাজ এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনাও বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের মহাসড়কে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
