
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোর হলে বিল থেকে শাপলা তুলে বাজারে যেতেন। মৌসুম শেষ হলে কখনও দিনমজুরি, কখনও দূরের শহরে গিয়ে ছোটখাটো কাজ করেই চলত সংসার। যে কাজেই দু’মুঠো ভাত জুটত, সেটিই ছিল তার জীবিকার পথ। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
কিন্তু শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলের একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিল সেই সংগ্রামী জীবন। সড়কের পাশে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের পানলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫২)। পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত শহিদুল ইসলাম পানলা গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে। পেশায় তিনি শাপলা ফুল বিক্রেতা ছিলেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে জীবিকার তাগিদে কখনও বাসে, কখনও ট্রেনে চড়ে দূর-দূরান্তে ফুল বিক্রি করতেন। মৌসুম বদলালে বদলে যেত তার কাজও। পরিবারের প্রয়োজনই ছিল তার একমাত্র প্রেরণা।
স্থানীয়রা জানান, অভাব ছিল, কিন্তু হতাশা ছিল না। নিজের কষ্ট আড়াল করে পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে শহিদুল ইসলাম তার ভাই সবুজের ৯ বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে সান্তাহার-নাটোর বাইপাস সড়কের পানলা ব্রিজ এলাকায় ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় রানীনগর থেকে সান্তাহারগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম, শিশু আব্দুর রহমান এবং মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত অন্য তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নতুন একটি মোটরসাইকেল কিনে মির্জাপুর থেকে সান্তাহারের দিকে ফিরছিলেন। তবে দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, নওগাঁয় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদমদীঘি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
