প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গোল্ডেন জিপিএ-৫, মাহফুজের পড়াশোনা ও কৃত্রিম পায়ের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক পা হারিয়েছিল মাহফুজ। হঠাৎ নেমে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তার স্বপ্নের পথচলা। হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। মাহফুজের অদম্য সাফল্যের গল্প শুনে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহফুজের সংগ্রামের কথা জানতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি মাহফুজের উচ্চশিক্ষাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নিজের অর্থায়নে মাহফুজকে একটি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাহফুজের কৃত্রিম পা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। মাহফুজ শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্নই আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। মাহফুজের মতো অদম্য শিক্ষার্থীরা শুধু নিজের পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চান। সেই রাষ্ট্র গঠনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
এ সময় কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আরও কিছু বিশেষ ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। দেশের সেরা ১০টি কলেজের যেকোনো একটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি উপজেলার সব স্কুলছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দেন। তার এসব ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার মোট ২৩৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত সনদপত্র, মগ, নগদ অর্থ, দুটি খাতা, ছয়টি কলম, স্কুলব্যাগ এবং তিনটি করে ঔষধি, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২৩৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে যখন সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাদের চোখেমুখে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। আর মাহফুজের গল্প সবাইকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে-শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সহায়তা থাকলে সেই বাধা জয় করাও সম্ভব।


