বগুড়ার আশিক সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত
বাবাকে হারাল ১১ ও ৬ বছরের দুই শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বিদায় জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুর খবরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী, বাবাকে হারিয়ে অসহায় দুই শিশুসন্তান। আর সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।

নিহত শাহেদ আহমেদ আশিক শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন তিনি। এর আগের দিন ৯ অক্টোবর পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নেন। প্রায় এক মাসের ছুটি শেষে প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশে ফিরলেও আর পরিবারের কাছে ফেরা হলো না তাঁর। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়ে বিদেশের মাটিতেই থেমে গেল তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যান আশিক। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কাজ করছেন। তিন মাস আগে তাঁর মাও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান।
গ্রামের বাড়িতে আশিকের স্ত্রী ও ১১ এবং ৬ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা স্ত্রী।
অন্যদিকে, বাবাকে হারিয়ে দুই শিশুর জীবনে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা। সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
সৌদি আরব থেকে অনলাইনে আশিকের মৃত্যুর খবর দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছায়। আকস্মিক এই সংবাদ মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। যে মানুষটি এক মাসের ছুটি শেষে নতুন করে জীবনের স্বপ্ন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
জানা গেছে, শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক মাসের ছুটি শেষে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জীবিকার সন্ধানে কর্মস্থলে ফেরা আশিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি এখন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের বেদনার একমাত্র অবলম্বন।


