প্রধান খবরবগুড়া জেলা

বগুড়ায় র‍্যাব পরিচয়ে শিক্ষার্থী অপহরণ, মুক্তিপন নিতে গিয়ে ২ নারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় র‍্যাব পরিচয়ে ফেরদৌস হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে পুলিশের কাছে আটক হয়েছেন দুই নারী। শনিবার তাদের নারায়ণগঞ্জ থানা বন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে অপহরণকারীরা ফেরদৌসকে নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকায় হাত পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায়।

খবর পেয়ে ওই থানা পুলিশ ফেরদৌসকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

ফেরদৌস বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান হক কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই গ্রামের হাবিল সরকারের ছেলে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বগুড়া শহরের জহুরুল নগর এলাকার একটি ছাত্রবাস থেকে তাকে র‍্যাবের পোশাক পরিহিত কয়েকজন টেনে হিচড়ে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

ফেরদৌসের স্ত্রী মাহবুবা বেগম জানান,শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে একটি মাইক্রোবাস যোগে আসা
র‍্যাবের পোশাক পড়া কয়েকজন ছাত্রবাস থেকে ফেরদৌসকে ডেকে বের করে। এরপর তাকে মারধর করে জোরপুর্বক মাইক্রবাসে তুলে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে ফেরদৌসের পরিবারের কাছে ফোন করে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। দুপুর পর্যন্ত তারা বিভিন্ন নাম্বারে বিকাশ এবং নগদের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দেয়। কিন্তু তারপরেও ফেরদৌসকে মুক্তি না দিয়ে আরো টাকা দাবী করতে থাকে।

পরে বিষয়টি বগুড়া জেলা পুলিশকে জানালে তারা তৎপরতা শুরু করেন। বিকেল ৫ টার দিকে নারায়নগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ বিকাশে টাকা নিতে আসা দুই নারীকে আটক করে। এর পরপরই নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকায় অপহৃত ফেরদৌসকে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পার্শ্বে ফেলে রাখা হয়। পরে জনগনের সহযোগিতায় মাধবদী থানা পুলিশ ফেরদৌসকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মইনুদ্দিন বলেন, অপহরণের ঘটনায় ফেরদৌসের স্ত্রী মাহবুবা বেগম বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন। আমরা এখনও ভিকটিম এবং আটক কাউকে হাতে পাইনি।তাদেরকে পেলে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে, র‍্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার এম আবুল হাশেম সবুজ বলেন, র‍্যাবের পোশাক পরিচিত ওই ব্যক্তিরা র‍্যাবের কেউ নন। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে তারা কাজ করছেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button