আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা মমতাজ উদ্দিনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী

আজ উত্তরজনপদের প্রবীন রাজনীতিবীদ, বগুড়ায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তলোনকারী, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযােদ্ধা জননেতা মমতাজ উদ্দিন সিআইপি’র ২য় মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবীদের মৃতুতে শুধু আওয়ামী লীগ নয় বগুড়াবাসী তাদের অভিভাবক হারিয়েছে। বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযােদ্ধা মমতাজ উদ্দিন দীর্ঘসময় যাবত বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপি জামায়াতের ঘাটি খ্যাত বগুড়ায় আওয়ামী লীগ সু-সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামাে। তৃনমুল পর্যায়ে গড়েছেন শক্তিশালী সংগঠন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সহ এফবিসিসিই এর পরিচালক ছিলেন তিনি। সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন একাধিকবার।
বগুড়ায় প্রকাশিত দৈনিক প্রভাতের আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তিনি। বগুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য সহ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির সিনিয়র সদস্য মমতাজ উদ্দিন বগুড়া করোনেশন স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যােগদান করুন। ৬৯ এ বৃহত্তর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই থেকে পথ চলা শুরু। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব বাহিনীর প্রথম ব্যাচ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং বগুড়ায় কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৭২ সালে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, ৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দুঃসময়ে বগুড়ায় আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তিনি।
প্রথমে প্রচার সম্পাদক, তারপর সাংগঠনিক সম্পাদক পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপরে ১৯৯২ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যতম সদস্য নির্বাচিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী মমতাজ উদ্দিন বগুড়া সদরে খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৭৪ হাজার ২শ ভােট পেয়েছিলেন।
প্রয়াত জননেতা মমতাজ উদ্দিন একজন ব্যক্তি নয়, একটি প্রতিষ্ঠান, রাজনীতির কিংবদন্তী ছাত্রজীবন থেকে আমৃত্যু তিনি সামনে থেকে সকল লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। পাকিস্তানী শাসক-শোষক গােষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় মমতাজ উদ্দিন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশের যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছেন তিনি। দুঃসময়ে দলের নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করেছেন।
মমতাজ উদ্দিন মনে করতেন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার মানেই আওয়মী লীগ। তাই ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার। ২০০৮ সালের বর্ধিত সভায় তিনিই প্রথম জননেত্রী শেখ হাসিনায় মুক্তি এজেন্ডা ৫ নম্বর থেকে ১ নম্বরে নিয়ে আসার প্রস্তাব উথাপন করেন। বিভিন্ন সরকার নানা প্রলোভন দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেনি। প্রয়োজনে ক্ষমতা থেকে দূরে গেছেন। এ আদর্শের প্রশ্নে আপােষ করেন নি।
আইয়ুব সরকার, সামরিক সরকারের বক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দীর্ঘ ৫০ বছর তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ গনতানত্রিক আন্দোলন, লড়াই সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিস্তায় কাজ করে গেছেন।
তিনি বগুড়াবাসীর হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মাধ্যমে।



