প্রধান খবরবগুড়া সদর উপজেলা

বগুড়া সদরে বেড়েছে ছিনতাই! এড়িয়ে যাচ্ছেন থানা পুলিশ

বগুড়া সদর থানা এলাকার ৫০০ গজ (আনুমানিক) পশ্চিমে স্টেডিয়াম ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড এলাকা সেউজগাড়ি এলাকায় বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রায়ই মোটরসাইকেল বাহিনীর হামলার স্বীকার হচ্ছেন স্টেশন রোড, কাইলার বাজার এলাকা এবং কারমাইকেল রোডের পথচারীরা। এদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন সদর থানা পুলিশ।

জানা গেছে, সেউজগাড়ি কারমাইকেল রোড়ে রাতে যাতায়াতের সময় প্রায়ই ছিনতাই বা হামলার সম্মুখীন হচ্ছেন ওই এলাকার পথচারীরা। তবে এর কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এমনকি সদর থানায় ছিনতাইয়ের কোন অভিযোগ নিতেও নারাজ পুলিশ।

এ বিষয়ে ভুক্তভুগী এক নারী আজমিনা আকতার বগুড়া লাইভকে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে অবস্থিত ইকবাল ক্লিনিক থেকে ডিউটি শেষ করে রিক্সাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কর্ম ব্যস্ততার কারনে অনেক সময়ই বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হয়ে যায়। গত ১৩ই মে রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে বাসায় ফেরার পথিমধ্যে কাইলার বাজার মোড়ে মোটরসাইকেল যোগে তিনজন লোক তার রিক্সার পাশে আসে এবং হঠাৎ তার হাতে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।

পরে ভুক্তভোগী ওই নারী সে রাতেই সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। পরে তাকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ না দিয়ে বরং তার নিজের অসাবধানে কারণে তার ব্যাগ এবং ব্যাগে থাকা মোবাইল হারিয়েছে এই মর্মে জিডি করার পরামর্শ দেন এবং মেয়েটি অনেকটা বাধ্য হয়ে সেই জিডি করে বাড়িতে ফেরেন।

এছাড়াও কিছুদিন আগেও রাতে মার্কেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক এক নারীর সাথেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। তাছাড়াও এমনই মটরসাইকেল যোগে গত ঈদের ৩য় দিন রাতে কারমাইকেল রোডে আকষ্মিকভাবে আসা অজ্ঞাত বাহিনীর হামলা স্বীকার হন এক তরুণ।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বগুড়া সেউজগাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের বাসায় যদি কাউকে রাতে দাওয়াত দিতে চাই তাহলে তার বেশির ভাগই রাতে এই এলাকায় আসার জন্য অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি অত্র এলাকার কাইলার বাজার মোড়,কার মাইকেল রোড, সবুজ বাগ মোড়কে নিজদের জন্যেও রাতে চলাচলের অযোগ্য মনে করেন।

এসব বিষয় তুলে ধরে বগুড়া পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল এরশাদুল বারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এসব সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন বলেও জানান তিনি। তবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বা আইনি যে প্রক্রিয়া রয়েছে তা আরো কঠোরভাবে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বিষয়টি জানার আগ্রহ প্রকাশ না করে বরং এমন কোন অভিযোগ তিনি পায়নি বলে পুরোপুরিভাবে বিষয়টি এড়িযে যাবার চেষ্টা করেন এবং মুঠোফোনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

এসএ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button