
রাস্তায় বেরোলেই কাঠফাটা রোদ, অসহনীয় গরম আর অস্বস্তি। বৈশাখের তীব্র তাপদাহে এখন শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও বাড়ছে হিটস্ট্রোক-এর ঝুঁকি। বিশেষ করে যারা কম পানি পান করেন, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ রয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কেন বাড়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি?
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি থাকে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরের ‘থার্মোস্ট্যাট’ হিসেবে কাজ করে।
প্রচণ্ড গরমে শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে হাইপোথ্যালামাস দুটি প্রধান কাজ করে-
- ত্বকের কাছের রক্তনালি প্রসারিত করে অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়
- ঘাম তৈরি করে, যা বাষ্পীভূত হয়ে শরীর ঠান্ডা করে
কিন্তু কেউ যদি দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, ডিহাইড্রেশনে ভোগেন বা শরীর দুর্বল থাকে, তখন এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
ফলে-
- শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়
- পানিশূন্যতা দেখা দেয়
- শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে
- হার্টের ওপর চাপ পড়ে
- পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে
শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
হিটস্ট্রোকের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো-
- মাথা ঘোরা
- বমি ভাব
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
- বিভ্রান্তি
- সিদ্ধান্তহীনতা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- পেশিতে টান বা খিঁচুনি
- ঘাম কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
অসুস্থ বোধ করলে কী করবেন?
অরুণাংশু তালুকদার বলেন, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুধু এসি রুমে নেওয়ার চেয়ে দ্রুত ঠান্ডা করা বেশি জরুরি।
যা করতে হবে-
- দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিন
- শরীরে ঠান্ডা পানি দিন
- ঘাড়, কান, বগল ও কুঁচকিতে আইসপ্যাক দিন
- কাপড় ঢিলা করে দিন
- সচেতন থাকলে পানি বা ওআরএস দিন
- দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিন
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ-
- সকাল ১০টার পর থেকে বিকেল ৫টার আগে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া
- বাইরে গেলে ছাতা, টুপি, সানগ্লাস ব্যবহার করা
- নাক-মুখ সুতির কাপড় বা মাস্কে ঢেকে রাখা
- সবসময় পানির বোতল সঙ্গে রাখা
- নিয়মিত পানি পান করা
- লেবু-নুন-চিনি মিশ্রিত পানি, ওআরএস বা ইলেকট্রোলাইট পানীয় খাওয়া
- দিনে অন্তত দুইবার গোসল করা
- বাইরে থেকে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে পানি পান করা
- প্রস্রাব স্বাভাবিক হচ্ছে কি না খেয়াল রাখা
গরমে কী খাবেন
শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। যেমন-
- লাউ
- মাছের ঝোল
- টক দই
- মৌসুমি ফল
- ডাবের পানি
- ঘরে তৈরি ফলের রস
- লস্যি
- আখের রস
- ছাতুর শরবত
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। শরীরের ছোট ছোট সংকেতও গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ সময়মতো সতর্ক হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।



