আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরের’ হামলা: প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরার দাবি ট্রাম্পের

কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণ, সামরিক ঘাঁটিতে ধোঁয়া— মাদুরোর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

ভেনেজুয়েলায় আজ শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে— সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকার এখন পর্যন্ত মাদুরোকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

কারাকাসে বিস্ফোরণ, সামরিক ঘাঁটিতে ধোঁয়া

আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি।

অন্যটি ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি— যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোরে কারাকাসজুড়ে বিকট শব্দ, যুদ্ধবিমানের আওয়াজ এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণ অংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের দাবি

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন,
“ঠিক এই মুহূর্তে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কারাকাসে বোমা হামলা চালাচ্ছে… ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তিনি এ ঘটনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

এপি’র প্রতিবেদন

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

২১ বছর বয়সী চাকরিজীবী কারমেন হিদালগো বলেন,
“কারাকাসের পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। আমরা দূরে বিস্ফোরণের শব্দ আর যুদ্ধবিমানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।”

ট্রাম্পের আগের হুমকি

ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, “মাদুরোর ক্ষমতা ত্যাগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”

পেন্টাগনের নীরবতা, সামরিক উপস্থিতি জোরদার

কারাকাসের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার আশপাশের অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক ফাইটার জেট মোতায়েন করে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেল অবরোধ ও মাদক পাচার ইস্যু

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি মাদক পাচারের অভিযোগে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার দুই ডজনের বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহ করছে। তবে মাদুরো সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। বিশ্বের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button