ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিকে অবজ্ঞা করেছে: জাতিসংঘ

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতিকে অবজ্ঞা করেছে-এমন মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর)।
জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন,
“কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অন্য কোনো রাষ্ট্রের হুমকি দেওয়া বা বলপ্রয়োগ করা উচিত নয়।”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক, যা এই অভিযানের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর সমালোচনা তীব্র
এই মন্তব্য এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকের পর। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশও ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে।
এর মধ্যে ফ্রান্স সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়। দেশটির জাতিসংঘে স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি জয় ধর্মাধিকারী বলেন,
“মাদুরোকে আটক করার ঘটনা বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ নীতির পরিপন্থি এবং বলপ্রয়োগ না করার আন্তর্জাতিক নীতিরও লঙ্ঘন।”
চীনের টানা চতুর্থ দিনের বিরোধিতা
এদিকে আজ সকালে টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন,
“চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে বজায় রাখতে এবং ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
চীনের সঙ্গে মাদুরোর ঐতিহাসিক সম্পর্ক
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঐতিহাসিকভাবে চীনকে তার ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে চীন দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলাকে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক



