আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিল ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক চাপ পুরো অঞ্চলকে ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে। একদিকে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির জন্য ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে রেখেছে। তবে সেই সময়সীমা কী-এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটি শুধু তেহরানই জানে।”

হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চান। তবে চুক্তি না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এরই মধ্যে ইরানের দিকে বড় আকারের নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়া এই বহর আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে এই সামরিক আরমাডা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিত্র দেশকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে খুব দ্রুতই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প। সাবেক এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়, বরং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করাও এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

অন্যদিকে সামরিক চাপের মধ্যেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির তুরস্ক সফর এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আঞ্চলিক সমর্থন জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরস্কসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালেই সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বহরে যুক্ত হয়েছে এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো হামলা চালালে ইরান তার কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেবে

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক ভাষা থাকলেও বাস্তবতায় দুই পক্ষই এগোচ্ছে মুখোমুখি সংঘাতের দিকেই। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ ও পাল্টা হুমকির এই পরিস্থিতিতে সামান্য ভুল হিসাবই বড় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

তবে আরেকটি মতও রয়েছে-এই চরম উত্তেজনাই শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে। সময় যত গড়াচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের শঙ্কা যেমন ঘনিয়ে আসছে, তেমনি বাড়ছে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক নাটকীয়তার সম্ভাবনাও।

তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button