
গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত একজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা এবং দায়মুক্তির ক্রমবর্ধমান সংস্কৃতির প্রতিফলন।
সিপিজে বলছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সাংবাদিকদের বেসামরিক নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত, নির্বিচার বা অসম মাত্রার হামলা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এসব ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বুধবার গাজা ও লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালায় ইসরায়েল। সাংবাদিক মোহাম্মদ সামির ওয়াশাহ, ঘাদা দায়েখ এবং সুজান খলিল নিহত হন। একটি উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিজে।

কাতার মিডিয়া ড্রোন মিডিয়া আল জাজিরা মুবাশ্বের- সংবাদদাতা ওয়াশাহ গাজা সিটিতে ইসরায়েলি এর সোন ক্ষমতায় হন। তার গাড়ি লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা হয় বলে জানা গেছে।
মধ্যবর্তী লেবাননে পার্টি ইসরায়েলি স্থানীয় নেতা হন সাওত আল-ফারাহ-এর উপস্থাপক দাইয়েখ এবং আল-মানার টিভি ও আল-নূর রেডিও-এর প্রতিবেদক ও উপস্থাপক খলি।
গভীর, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরবির তিন ঘণ্টার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবানন যুদ্ধ বোমাবর্ষণ চালায় ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির পরের কয়েক মিনিটের মধ্যে শাতাধিক যুদ্ধ গঠিত হয় বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজা যুদ্ধের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের সাংবাদিকদের জন্য সিআইয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পরের সহযোগে ২৬০ জন উপস্থিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুধু লেবানন এ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত সাতজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।
সিপিজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “সাংবাদিকদের দ্রুত এবং মধ্য হারে করা হচ্ছে, তা বিশ্ব বিবেককে না প্রতিস্থাপনের মতো।
তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতা না থাকলে এসব হামলা আরও বাড়বে এবং যারা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করতে চায়, তারা আরও উৎসাহিত হবে।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং চলমান হামলা বন্ধ করতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। সংস্থাটি পুনরায় দাবি জানিয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো সব হত্যাকাণ্ডকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
সিপিজের মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই তার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়ে আসছে। তাই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিটের সদস্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কমান্ড পর্যায় পর্যন্ত দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
সংস্থাটি বলছে, গাজা ও লেবাননে সাংবাদিকদের এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বৃহত্তর আক্রমণের অংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সূত্র: ডেইলি স্টার



