
টাইটানিক জাহাজডুবির ১১৪ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির এক স্মৃতিচিহ্ন। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নিলামে টাইটানিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটিরও বেশি টাকা।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন জানিয়েছে, এই মূল্য তাদের প্রত্যাশার প্রায় তিনগুণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু অলড্রিজ একে “প্রজন্মে একবার ঘটে এমন ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন।
নিলামে বিক্রি হওয়া লাইফ জ্যাকেটটির মালিক ছিলেন টাইটানিকের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাটেলি। তিনি বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডনের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে টাইটানিক হিমশৈলের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে গেলে লরা তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে ১ নম্বর লাইফবোটে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
জাহাজে থাকা মোট ২,২২০ জন মানুষের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বেঁচে ফিরেছিলেন। লরা ছিলেন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, টাইটানিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত এটিই একমাত্র নিদর্শন, যা এখন পর্যন্ত নিলামে উঠেছে।
বেইজ রঙের ক্যানভাসে তৈরি কর্ক-ভরা এই লাইফ জ্যাকেটটিতে উদ্ধার হওয়া অন্যদের স্বাক্ষরও রয়েছে। নিলামের আগে এটি বেলফাস্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির টাইটানিক জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়েছিল।
অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, টাইটানিকের প্রতিটি মানুষেরই আলাদা গল্প ছিল। এই লাইফ জ্যাকেটটি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং সেই ভয়াবহ রাত থেকে বেঁচে ফেরার এক অনন্য দলিল।
উল্লেখ্য, টাইটানিককে সে সময় “অডুবন্ত জাহাজ” মনে করা হলেও প্রথম সমুদ্রযাত্রাতেই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায়। জাহাজটিতে পর্যাপ্ত লাইফবোট না থাকায় প্রাণ হারান প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
সূত্র: সিএনএন



