আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই জিতু মুন্ডা

ভারতের ওডিশা রাজ্যের কেওনঝর জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে তাঁর কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির হয়েছেন এক আদিবাসী ব্যক্তি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার হিসাবধারীর মৃত্যুর প্রমাণ চাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে কেওনঝর জেলার পাতনা ব্লকের অন্তর্গত ওডিশা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিপোসি শাখায়।

ওই ব্যক্তির নাম জিতু মুন্ডা (৫০)। তিনি দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তাঁর বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তুলতে চেয়েছিলেন। দুই মাস আগে অসুস্থতার কারণে কালরা মুন্ডার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, গবাদিপশু বিক্রি করে ওই অর্থ জমা করেছিলেন কালরা মুন্ডা। তাঁর আর কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকায় কয়েক দিন আগে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করেন জিতু মুন্ডা।

কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত্যু সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে। এসব নথি সংগ্রহ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জিতু মুন্ডা তাঁর বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করে ব্যাংকে নিয়ে আসেন।

অশিক্ষিত জিতু মুন্ডা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বহুবার ব্যাংকে গেছি। তারা আমাকে বলেছে, অ্যাকাউন্টধারীকে নিয়ে আসতে হবে টাকা তুলতে। আমি বলেছি, সে মারা গেছে, কিন্তু তারা শোনেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি কবর খুঁড়ে তার কঙ্কাল নিয়ে এসেছি, যেন প্রমাণ দিতে পারি সে আর বেঁচে নেই।”

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাতনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “জিতু একজন অশিক্ষিত আদিবাসী মানুষ। তিনি বৈধ উত্তরাধিকারী বা নমিনি বিষয়টি জানেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাঁকে সঠিকভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলতে ব্যর্থ হয়েছে।”

পুলিশ জিতু মুন্ডাকে আশ্বাস দিয়েছে, তাঁর মৃত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে তারা সহায়তা করবে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কঙ্কালটি আবার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বলেন, বিষয়টি আগে কেউ তাঁকে জানায়নি। এখন সমস্যার সমাধানে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কালরা মুন্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন, তিনিও মারা গেছেন। ফলে জিতু মুন্ডাই ওই টাকার একমাত্র দাবিদার।

স্থানীয় প্রশাসন ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত জিতু মুন্ডার হাতে টাকা বুঝিয়ে দিতে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button