
তেল রফতানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ ও ‘ওপেক প্লাস’ (এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, চলমান যুদ্ধে ইরানের হামলা থেকে রক্ষা করতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না। মূলত এ ক্ষোভ থেকেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আমিরাতের এ সিদ্ধান্তকে ওপেকের কার্যত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকি ও ধারাবাহিক আক্রমণের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আমিরাত এ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক জোট বিশ্বের তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের মতো প্রভাবশালী উৎপাদনকারী দেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে ওপেকের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি



