দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা: নিহত ১৩, আহত ২১
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হামলা অব্যাহত, পাল্টা জবাবের দাবি হিজবুল্লাহ-র

দক্ষিণ লেবানন-এর বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ২১ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার হাব্বুশ শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যে এলাকায় আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ (ইভাকুয়েশন অর্ডার) দিয়েছিল, সেখানেই পরবর্তীতে হামলা চালানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, হাব্বুশে নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও দুই নারীসহ আটজন রয়েছেন। একই দিনে জারারিয়েহ শহরে পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় সেখানে আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
এ ছাড়া উপকূলীয় শহর টায়ার-এর কাছে আইন বাল গ্রামে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই হাব্বুশ শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, সতর্কতা জারির এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই এসব হামলা ঘটে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ-এর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ‘জোরালো’ পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বাসিন্দাদের শহর থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
এদিকে এনএনএ জানিয়েছে, টায়ারসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চুক্তিতে ‘পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলা প্রতিরোধে’ পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকায় বাস্তবে সংঘর্ষ থামেনি।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা লেবানন সীমান্তের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ‘ইয়েলো লাইন’-এ অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শামা ও ইয়ারুন শহরেও ভবন, দোকানপাট ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা ও বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যা তাদের মতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০৩ জন জরুরি উদ্ধারকর্মী ও প্যারামেডিক রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ সতর্ক করে জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা কাজ করতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। সংস্থাটির আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জাভিয়ের কাস্তেলানোস বলেন, জীবন বাঁচাতে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



