যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার শঙ্কায় চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত বের করছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরুদ্ধারের তৎপরতা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুই ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, ইরান ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অস্ত্রও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, তেহরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায়, যাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করলে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া যায়।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড–এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত’ হামলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
বৈঠকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন-ও অংশ নেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক বিকল্প তুলে ধরেন।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠককে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনার নিচ থেকে সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করছে, যা তাদের দুর্বলতাও প্রকাশ করে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে-দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন কেন্দ্র ও নৌক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। এনবিসি নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে-এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ, বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি যুদ্ধবিমান এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী–এর উল্লেখযোগ্য নৌ-সরঞ্জাম।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধের আগে ইরান অনেক অস্ত্র মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল, যার একটি অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখনও অবশিষ্ট আছে, যদিও তিনি দাবি করেন, প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের হাতে এখনও প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি চাপে রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তারা এখনো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায়, যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: টিবিএস নিউজ



