আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে বাহরাইন-কুয়েত

তেহরানে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত। চলতি মাসের শুরুতে পরিচালিত ওই গোপন অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ডিপোসহ একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লক্ষ্যবস্তুর গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি হামলায় অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তাও দিয়েছে দেশটি। এই ঘটনাকে ইরানকে মোকাবিলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নতুন সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। দেশ দুটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তুলনামূলক ছোট বিমানবাহিনী থাকা সত্ত্বেও বাহরাইন ও কুয়েতের বহরে মার্কিন ও ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান রয়েছে।

এদিকে ইউএই জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখার পক্ষে। কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুয়েত। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আল-জেইন আল-সাবাহ বলেছেন, “কুয়েত রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। এমনকি প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বড় আকারের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি, অন্যদিকে ভৌগোলিকভাবে শক্তিশালী প্রতিবেশী ইরানের চাপ-দুইয়ের মাঝখানে অবস্থান করছে আরব দেশগুলো। যুদ্ধের বড় মূল্যও গুনতে হচ্ছে তাদেরই। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতিও চাপে পড়েছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, “যুদ্ধ যেভাবে এগোচ্ছে, তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। কারণ অশান্ত অঞ্চলে নিজেদের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে ধরে রাখার সুযোগও তারা হারাচ্ছে।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকেই আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান আমিরাতে সরাসরি হামলা কমিয়েছে, তবে চলতি মাসের শুরুতে দেশটির দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন। কয়েক দশক ধরে ইরানের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো নয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে তারাই ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। রোববার কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান তাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কুয়েত এ ঘটনাকে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সরাসরি হুমকি এবং উত্তেজনার বিপজ্জনক বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে ওমান ও কাতার বরাবরের মতোই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিতে রয়েছে এবং তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। আর যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউএইর সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানো সৌদি আরবও বর্তমানে নিজেদের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আরব দেশগুলোর আশা ছিল যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং তারা আবার অর্থনীতিতে মনোযোগ দিতে পারবে। কিন্তু সংঘাত এখন পঞ্চম মাসে গড়িয়েছে। কোনো পক্ষই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, আবার পিছু হটারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, ইয়েমেনের হুথিদের লোহিত সাগরে হামলা, পর্যটন খাতের ধস এবং বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button