জেন-জি বিক্ষোভের ‘ট্রেলার’ দেখল ভারত

লাদাখের রাজধানী লেহ শহরে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে জ্বলছে একটি গাড়ি। ছবি: এএফপি
লাদাখে হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেই জ্বলছে বিক্ষোভের আগুন। হিমালয়ের সাড়ে ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ছোট শহর লেহতে আলাদা রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে তরুণরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগুন দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন।
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীর থেকে পৃথক করার পর থেকেই লাদাখে কেন্দ্রীয় শাসন চলছে। তখন থেকেই সাংবিধানিক সুরক্ষা ও পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দাবিতে লাদাখবাসী আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি হলো নির্বাচিত স্থানীয় সরকার, যা রাজ্যের মর্যাদা ছাড়া সম্ভব নয়। গত ছয় বছর ধরে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করে আসলেও এবার পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘লাদাখ অ্যাপেক্স বডি’র অনশন কর্মসূচি বুধবার ১৫তম দিনে গড়ায়। এর আগের দিন দুজন বর্ষীয়ান অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে নিতে হয়। এ ঘটনায় সংগঠকেরা ধর্মঘটের ডাক দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় মোদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বিলম্ব, যা তরুণদের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে।
শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক বলেন, জ্যেষ্ঠ নেতাদের অসুস্থতা ও সরকারের গড়িমসির কারণে তরুণদের মধ্যে ধারণা জন্মে যে শান্তিপূর্ণ পথে আর ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এরপরই তরুণরা লেহ শহরের মূল প্রতিবাদস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকারি ভবন ও বিজেপি কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ওয়াংচুক এই ঘটনাকে ‘তরুণদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ’ ও ‘জেন-জি বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আস্থা হারানো তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছে। তিনি একে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক তরুণ নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
লাদাখের এই সংকটকে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে অঞ্চলটি চীন সীমান্তের জন্য ভূরাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সহিংস রূপ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার



