স্ট্রিট ফুডে ভয়াবহ জীবাণু: এক প্লেট ফুচকা চটপটিতে ৭ কোটির বেশি মলমূত্রের ব্যাকটেরিয়া

গরম আর যানজটের ক্লান্তিতে পথের ধারের শরবত, ফুচকা বা চটপটি অনেকের কাছে স্বস্তির খাবার হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এক প্লেট চটপটিতেই রয়েছে ৭ কোটির বেশি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, যা মূলত মানব মলমূত্র থেকে ছড়ায়। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ স্ট্রিট ফুডই অনিরাপদ।
বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির চরম অবহেলা দেখা যায়। ময়লা পানিতে প্লেট ধোয়া, খোলা খাবারে ধুলা-ধোঁয়ার সংস্পর্শ, বিক্রেতার অস্বাস্থ্যকর হাত-সব মিলিয়ে এসব খাবার হয়ে উঠছে জীবাণুর ঝুঁকিপূর্ণ উৎস। অনেক ক্ষেত্রে একই তেল বারবার ব্যবহার করে ভাজা হচ্ছে খাবার, যা ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়। শরবত বা আখের রসে ব্যবহৃত বরফের বড় অংশই মাছ সংরক্ষণের কারখানা থেকে আসছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানীর ৩৭টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ৪৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে চটপটি, ছোলা-মুড়ি, স্যান্ডউইচ ও আখের রসসহ বিভিন্ন খাবারে সালমোনেলা ও ভিব্রিও-সহ বিভিন্ন জীবাণুর উপস্থিতি পেয়েছে। চটপটিতেই জীবাণুর মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে-প্রতি প্লেটে মিলেছে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ই-কোলাই, ৭৫০ সালমোনেলা ও ৭৫০ ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জীবাণু ডায়রিয়া, পেটের রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল অসুস্থতার কারণ হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি।
গবেষক মো. লোকমান হেকিম বলেন, ই-কোলাই মূলত মানুষের মলে থাকা জীবাণু। ঢাকা ওয়াসা-র পানির লাইন ও পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের মিশ্রণের কারণে এই জীবাণু ছড়াচ্ছে। ফুটপাতের বিক্রেতারা সরাসরি এ পানি ব্যবহার করায় খাদ্যদ্রব্য সহজেই দূষিত হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল-এর ২০১৯ সালের এক গবেষণায়ও রাজধানীর রাস্তার খাবারে বিপজ্জনক মাত্রায় টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



