অনশন ভাঙাতে ডাবের পানি কেন খাওয়ানো হয়?

দাবি আদায়ে মানুষ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেন—কখনও শান্তিপূর্ণ, কখনও সংঘাতপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী কর্মসূচি হলো আমরণ অনশন। এই আন্দোলনের ধরনটির সূচনা ব্রিটিশবিরোধী সময় থেকে, যা আজও চলে আসছে। অনশনে কারও ক্ষতি না হলেও, অনশনকারীর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে—তাই বড় ধরনের অসুস্থতা এড়াতে সাধারণত কর্তৃপক্ষ তার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
বাংলাদেশে অনশন ভাঙানোর সময় প্রায়ই দেখা যায়—ডাবের পানি বা ফলের জুস খাইয়ে তা শেষ করা হয়। কিন্তু কেন ডাবের পানি?
পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে। অ্যাসিডিটি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, পেশি ক্ষয়, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। হজমশক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে—অ্যাসিড বাড়ে, এনজাইম কমে, অন্ত্রের গতি ধীর হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতিও করতে পারে।
এই সময় ডাবের পানি এক প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, শরীরকে পুনরায় হাইড্রেট করে এবং বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ডাবের পানির ডাই-ইউরেটিক উপাদান ইউরিনারি ইনফেকশন প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ, অনশন শেষে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে ও পাচনতন্ত্রকে পুনরায় সক্রিয় করতে ডাবের পানি হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। এ কারণেই অনশন ভাঙানোর ঐতিহ্যে ডাবের পানিই বেছে নেওয়া হয়—এটি শুধু প্রতীকি নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও যথাযথ।



