সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে নতুন এমপিদের শপথের সুযোগ নেই: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে বিগত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান এবং শপথ গ্রহণ করানোর সম্ভাব্য কয়েকটি আইনি বিকল্পের কথাও তুলে ধরেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন,
“আমাদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাঝে একজন নিখোঁজ। আরেকজন জেলে আছে। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে। তারা পদত্যাগও করেছে, বিশেষ করে স্পিকার। এই অবস্থায় উনাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করানোর কোনো ধরনের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আইনে বলা আছে-স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন,
“বর্তমান প্রধান বিচারপতি রাজি থাকলে উনিও হতে পারেন।”
তিন দিনের নিয়মের কথাও জানালেন আইন উপদেষ্টা
অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি শপথ গ্রহণ করানো সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। তবে সরকার সেই পথ বেছে নিতে আগ্রহী নয়।
তিনি বলেন,
“এটি হলে আমাদের তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পরে আমরা যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”
একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন,
“এখন এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে পারবো না।”
রাষ্ট্রপতির শপথ প্রসঙ্গে প্রশ্ন
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে-যেহেতু মন্ত্রীদের শপথ রাষ্ট্রপতিই গ্রহণ করান, তাহলে সংসদ সদস্যদের শপথ রাষ্ট্রপতি কেন করাতে পারবেন না-আইন উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা তো এমপি নিয়ে কথা বলছি ভাই। তারপর কী হবে, ওনারা নিজেরা বুঝবে।”
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে অগাস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা



