
বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন মো. রাশেদ খান। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। যদিও তার দলবদলের বিষয়টি আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অনুমিত ছিল।
রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন রাশেদ খান।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মো. রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের রাশেদ খানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান যুগান্তরকে বলেন, “ধানের শীষে ভোট করতে আমি আগ্রহী। এলাকার জনগণও চায় আমি শহীদ জিয়ার মার্কায় ভোট করি। আমি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”
এর আগে গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন রাশেদ খান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে তার পদত্যাগের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর।
নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, “গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন এবং বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের সদস্য পদ নেবেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের উত্তাল সময়ে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ প্রায় ৪২টি রাজনৈতিক দল ও জোট একদফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। আন্দোলনটি মূলত বিএনপির নেতৃত্বেই সংগঠিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই।”
নুরুল হক নুর জানান, আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে একই অবস্থানে থেকে কাজ করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নির্বাচনী কৌশল অনুযায়ী রাশেদ খানকে গণঅধিকার পরিষদের পদ থেকে সরে এসে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই দলটিতে একজন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে নুরুল হক নুর নিজেও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি গলাচিপা আসন থেকে নির্বাচন করছেন এবং ওই আসনে বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



