
আসন্ন গণভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেলে বিশ্বস্ততার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনে জয় পেলে মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
‘আমরা যদি সুযোগ পাই, বিশ্বস্ততার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করবো। নারীরা দেশের মোট আয়ে অংশগ্রহণ করছে-তাদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। আমাদের একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, তারা দেশের সম্ভাবনার জন্য কাজ করছে। আমার দলও তাদের জন্য কাজ করবে।’
২০২৪ সালের আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গ
জামায়াত আমির বলেন,
‘সারা বিশ্বের মানুষ জানে, ২০২৪ সালে আমরা নিজেদের মুক্ত করেছি। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছে ২৪ সালের আগস্টে। এ সময় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন।’
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য চেষ্টা করেছে।
“নতুন বাংলাদেশ, নতুন যাত্রা”
তিনি আরও বলেন,
‘এটা নতুন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। অর্থনীতিতেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে পার্টনার হয়ে কাজ করবে। আমাদের দলও সবার সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করবে।’
পলিসি সামিট-২০২৬ এর কর্মসূচি
সকাল ৯টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সামিটের কার্যক্রম শুরু হয়, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী পর্বে সামিটের উদ্দেশ্য ও কাঠামো তুলে ধরা হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে-
- বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ উপস্থাপন
- প্যানেল আলোচনা
- মতবিনিময়ের মাধ্যমে নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন
এর পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রচার বিভাগ জানায়, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করতেই এই আয়োজন।
সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে পৃথক অধিবেশন
জামায়াতের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামিটে-
- অর্থনীতি
- শিক্ষা
- স্বাস্থ্য
- সুশাসন
- কর্মসংস্থান
- সামাজিক ন্যায়বিচার
সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনায় একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে।
তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ



