আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ পেলে নেতৃত্বে নাও থাকতে পারেন শেখ হাসিনা-ইঙ্গিত সজীব ওয়াজেদ জয়ের

আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাহলে দলটির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা-কে আর দেখা নাও যেতে পারে-এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার মা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান এবং দেশে ফিরলেও সক্রিয় রাজনীতিতে নাও থাকতে পারেন।
‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’?
আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের প্রশ্নে জয় বলেন, শেখ হাসিনার বয়স (৭৮) এবং এটিই তার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল।
“সম্ভবত তাই”-এই কথার মধ্য দিয়েই তিনি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন। জয় স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে নিয়েও বা তাকে ছাড়াও চলতে পারে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস
বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আছে বলে দাবি করেন জয়। তার ভাষায়,
“আমাদের ৪০–৫০ শতাংশ ভোট আছে। ৬-৭ কোটি মানুষ হঠাৎ করে সমর্থন বন্ধ করে দেবে-এটা অসম্ভব।”

ওয়াশিংটন ডিসিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। আল জাজিরার ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচন ও ‘আয়রনি’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার প্রেক্ষাপটে জয় বলেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা একটি ‘খারাপ ধারণা’। তবে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন-আওয়ামী লীগের শাসনামলেও নির্বাচন নিয়ে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং সে সময় জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল।
জবাবে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি; জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের সিদ্ধান্তে।
সহিংসতার আশঙ্কা ও হাদি হত্যা প্রসঙ্গ
আগের এক মন্তব্যে “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না” বলায় সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, তিনি সহিংসতার হুমকি দেননি। বরং কাউকে কোণঠাসা করে ফেললে স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে-এই বাস্তবতার কথা বলেছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন,
“এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে এই সরকার টিকে থাকত কি?”
জুলাই ২০২৪ হত্যাকাণ্ড ও দায় প্রসঙ্গ
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে জয় স্বীকার করেন, পরিস্থিতি “মিসহ্যান্ডেল” করা হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড তার মায়ের সরাসরি নির্দেশে হয়নি।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার দিন শত শত মানুষের প্রাণহানি এড়াতেই দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। আল জাজিরা ও বিবিসির অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে জয় বলেন, সেগুলোর পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি।
বিচার ও জবাবদিহি
নিহত বিক্ষোভকারীদের বিচার প্রশ্নে জয় বলেন,
“বিচার সবার জন্য সমান হতে হবে। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও দায় নির্ধারণ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে শেখ হাসিনার দায় প্রসঙ্গে জয় বলেন,
“আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। কোনো মৃত্যু চাননি। তবে যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, তার বিচার হওয়া উচিত।”
এই সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য একদিকে যেমন শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবসানের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনীতির দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করে তোলে।



