
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব (৬২ বিধি) ঘিরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।
সোমবার সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন আছে কি না-এ প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংসদে দেখি সব তেল আছে; কিন্তু বাইরে তেল নেই। জ্বালানি ইস্যুটি এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গেলে আমাদের সংসদে থাকার কোনো সার্থকতা থাকে না।”
৭১ বিধির নোটিশ নিষ্পত্তির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য নুরুল ইসলামের দেওয়া দুটি ৬২ বিধির প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তোলেন। দুটি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু প্রায় একই হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি পড়ে শোনান তিনি।
প্রস্তাবে বলা হয়, দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানায় অচলাবস্থা ও জনজীবনের বহুমাত্রিক সংকট নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। পরে ৬৩ বিধিতে নোটিশটি নাকচ করেন ডেপুটি স্পিকার।
এ সময় ফ্লোর নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। বাস্তব অবস্থা জেনে করণীয় বিষয়েই আলোচনা করতে চাই। যদি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি নিয়েও আলোচনা করতে না পারি, তবে সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ অসন্তোষ। আমরা যদি খোলামেলা আলোচনা করতে পারি, সঠিক তথ্য ফ্লোরে আসে-তাহলে মানুষ উপকৃত হবে।”
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবটি অবশ্যই আলোচনার যোগ্য এবং জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তিনি বলেন, সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, সংসদে সব তেল আছে, বাইরে তেল নেই-এটিও তার গণতান্ত্রিক অধিকার।
জ্বালানিমন্ত্রীর বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর সংসদ মুলতবি রেখে এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সেটি ভাবতে হবে। দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। পরিসংখ্যান দিয়ে তা দেখানো হয়েছে।”
জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “সংকট সংসদের ভেতরে নেই, সংকট সংসদের বাইরে। সংকট আছে বলেই জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে হাইকোর্টের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় দুদিন ভার্চুয়ালি কোর্ট বসছে।”
তিনি আরও বলেন, ৬৮ বিধিতে আধা ঘণ্টার আলোচনার সুযোগ থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সময় নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার প্রস্তাব দেন, সংসদ মুলতবি না করে চলমান অধিবেশনের মধ্যেই এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টার সাধারণ আলোচনা করা যেতে পারে।
ডেপুটি স্পিকারের এ প্রস্তাব গ্রহণ করে শফিকুর রহমান বলেন, “আপনি দেড় ঘণ্টার কথা বলেছেন, আমি মেনে নিলাম। আপনারটাই কবুল।”
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার সময় এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সুন্দর করে কথা বলার পরও কি মন গলাইতে পারলাম না? আর কোন ভাষায় বললে মন গলবে? ঠিক আছে, আপনি যেটা সর্বোত্তম মনে করেন, সেটাই আমরা আশা করব।”
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



