পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে ১৫০ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ভুল: অনিশ্চয়তায় গাইবান্ধার পরীক্ষার্থীরা

আগামীকাল ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অন্য পরীক্ষার্থীরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর চোখে এখন দুশ্চিন্তার জল। প্রবেশপত্রে ব্যাপক ভুল ধরা পড়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার এই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২১২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কয়েকদিন আগেই প্রবেশপত্র বিতরণ করলেও, কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয় শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে এটি তুলে দেয়।
শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখেন তাতে তথ্যের ছড়াছড়ি:
- কারও বাবা-মায়ের নাম ভুল এসেছে।
- ছেলে শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে মেয়ের ছবি, আবার মেয়ের প্রবেশপত্রে ছেলের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
- সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বিজ্ঞান বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে বিভাগ হিসেবে ‘মানবিক’ উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বড় ধরনের ভুলে ভেঙে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, “সারা বছর বিজ্ঞান বিভাগে পড়লাম, এখন প্রবেশপত্রে দেখছি মানবিক। কাল কীভাবে পরীক্ষা দেব আর ওএমআর শিটে কী লিখব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবশ্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে এই ভুলগুলো হয়েছে। তবে পরীক্ষার আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবেশপত্রে ছবি বা তথ্যে ভুল থাকলে প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড যাচাই সাপেক্ষে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে বসার সুযোগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্র সচিবের বিশেষ তদারকি প্রয়োজন হবে।
এখন দেখার বিষয়, প্রধান শিক্ষকের আশ্বাস অনুযায়ী পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে এই জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা কতটা নিশ্চিন্তে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: ডিবিসি নিউজ



