ধর্ম

মানুষের সেবা করলে শুধু পৃথিবীতে শান্তি আসে না, পরকালীন মুক্তিরও পথ তৈরি করে

ইসলাম শুধু আচার-অনুষ্ঠাননির্ভর ধর্ম নয়; মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই মুসলিম উম্মতকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সূরা আলে ইমরান ১১০)। একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) দয়া ও মানবিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন—“পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করো, আসমানের অধিপতি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন” (তিরমিজি ১৯২৪)।

সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে কেয়ামতের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে আল্লাহ বান্দাদের উদ্দেশে অসুস্থ, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষদের সহায়তা না করার বিষয়ে প্রশ্ন করবেন। বান্দারা অবাক হলে আল্লাহ জানিয়ে দেবেন—অন্যের সেবাই ছিল তাঁর সন্তুষ্টির পথ (হাদিস ৬৪৫০)।

ইসলামের ইতিহাসে নবী (সা.), সাহাবা ও খলিফারা মানবসেবাকে বাস্তব জীবনে রূপ দিয়েছেন। খলিফা উমর (রা.) রাতে ছদ্মবেশে বের হয়ে মানুষের কষ্ট খুঁজে দেখতেন; এমনকি ক্ষুধার্ত পরিবারকে নিজ হাতে খাদ্য পৌঁছে দিতেন। রাসূল (সা.) ঘোষণা করেছেন, “নিজের জন্য যা ভালোবাস, তোমার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসা ছাড়া কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারে না” (বুখারি ও মুসলিম)।

মানবসেবায় ইসলাম জাতি–ধর্মের পার্থক্য মানে না। কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম সন্তানের সবাইকে সম্মানিত করেছেন (সূরা ইসরা ৭০)। এমনকি কোনো নিরপরাধ অমুসলিমকে হত্যা করলে জান্নাত হারাম বলে সতর্ক করা হয়েছে (আবু দাউদ ২৭৬০)।

ইসলাম দানের পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত সম্পদ বণ্টনের দায়িত্বও নির্ধারণ করেছে। কুরআন বলে, অভাবগ্রস্তদের সম্পদে অধিকার রয়েছে (সূরা যারিয়াত ১৯)। তাই দান শুধু উপকার নয়, সামাজিক ন্যায় ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

মানবিক আচরণ ও দয়ার প্রতিদান প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) উল্লেখ করেছেন—তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি খাওয়ানোর কারণে এক নারী জান্নাত লাভ করে, আর একটি বিড়ালকে বন্দি রেখে মৃত্যুর কারণ হওয়ায় আরেক নারী জাহান্নামে গেছে (বুখারি ও মুসলিম)।

ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষা স্পষ্ট—মানবসেবা শুধু পৃথিবীতে শান্তি আনে না, পরকালীন মুক্তিরও পথ তৈরি করে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button