বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নিবন্ধনের বদলে সরাসরি পরীক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে নয়, এবার থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম রোববার বলেন, এবারই প্রথম সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
সূত্র জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি নবম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নামে পরিচিত হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হবে।
- ২০০ নম্বরের এমসিকিউতে উত্তীর্ণ হলে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
- উভয় পরীক্ষায় পাস করতে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
- ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের চাহিদা পেয়েছে এনটিআরসিএ।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক হতে হলে প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিবন্ধন সনদ নিতে হয়। এই সনদ দেয় এনটিআরসিএ। পরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন নিয়ে শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পদ্ধতিতে আবেদনের পর মোট ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এরপর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় যেসব প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, শুধু তাঁদেরই শিক্ষক পদে নিয়োগের সনদ দেওয়া হবে।
এনটিআরসিএ জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে শিক্ষকদের শূন্যপদের চাহিদা আহ্বান করা হয়, যা ই-রিকুইজিশন নামে পরিচিত। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর তা শেষ হয় ১৫ এপ্রিল। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমও (ই-রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন হয়েছে।
কবে নাগাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে-এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। তবে আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি শেষবারের মতো শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। সেখানে শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৮৭। এর মধ্যে স্কুল-কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরিতে ৮৩৩টি পদ ছিল। পরে ২৮ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগের জন্য অষ্টম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে শূন্যপদের সংখ্যা ১২ হাজার ৯৫১। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) এসব পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে আসছে। তবে প্রথম ১০ বছর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা দেয়। এরপর সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



