
প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই ও গোশত প্রসেসিং-সবই হচ্ছে অনলাইনে ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান্ত্রিক বা অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে পশু জবাইয়ের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে-ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মেশিনে জবাই করা পশু কি হালাল?
ফিকহ ও ইসলামি শরিয়তের আলোকে আলেমরা বলছেন, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পশু জবাই জায়েজ হতে পারে, তবে এর জন্য কয়েকটি কঠোর শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। শর্তগুলো লঙ্ঘিত হলে কোরবানি সহিহ হবে না এবং ওই পশুর গোশত খাওয়াও হারাম হয়ে যাবে।
মেশিনে জবাই বৈধ হওয়ার তিন শর্ত
১. জবাইকারীকে মুসলিম বা আহলে কিতাব হতে হবে
মেশিন চালুর জন্য যে ব্যক্তি সুইচ বা বাটনে চাপ দেবেন, তিনি অবশ্যই মুসলিম অথবা আহলে কিতাব হতে হবে। কোনো নাস্তিক বা শরিয়তসম্মত জবাইয়ের অযোগ্য ব্যক্তি মেশিন চালু করলে সেই জবাই বৈধ হবে না।
২. সরাসরি গলা কাটতে হবে
মেশিন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশুর কণ্ঠনালি বা গলা কাটা পড়তে হবে। যদি আগে অন্য কোনো অঙ্গ কেটে যায় বা আঘাতের কারণে পশুটি মারা যায়, তাহলে সেই জবাই শরিয়তসম্মত হবে না।
৩. ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আল্লাহর নাম নেওয়া। যিনি মেশিন চালু করবেন, তাকে সুইচ চাপার সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে।
এক সুইচে একাধিক পশু জবাইয়ের বিধান
বর্তমানে অনেক আধুনিক স্লটার হাউসে দেখা যায়, একটি সুইচ চাপলে একসঙ্গে বহু পশু বা পাখি জবাই হয়। এ বিষয়ে ফিকহবিদরা বলেন, যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মেশিন চালু করার পর একই সময়ে একাধিক পশুর গলায় ছুরি চলে, তাহলে সেসব পশুর জবাই বৈধ হবে।
তবে ইসলামি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন আলেমরা। এজন্য আধুনিক জবাই ব্যবস্থায় শরিয়াহ তদারকি থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা
