ক্রিকেট
প্রধান খবর

‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকের জন্মদিন আজ

বগুড়ার মাটিডালির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলেটি চাইলেই পারতেন বিলাসিতায় জীবন কাটাতে। কিন্তু তার রক্তে মিশে ছিল জেদ আর ২২ গজের নেশা। আজ ৯ মে, মুশফিকুর রহিম-এর ৩৯তম জন্মদিন।

যদিও সার্টিফিকেটে জন্মতারিখ ৯ জুন, তবে মুশফিক নিজেই নিশ্চিত করেছেন আজকের দিনটিই তার প্রকৃত জন্মদিন। ২০০৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড-এ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। তখন ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির কিশোরকে দেখে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাঁধেই যে আগামী দুই দশক বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভার থাকবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

দেশসেরা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন একবার বলেছিলেন, মুশফিক হয়তো অনেকের চেয়ে প্রতিভায় পিছিয়ে ছিলেন, কিন্তু তার আজকের অবস্থান কেবলই কঠোর পরিশ্রমের ফল।

শততম টেস্টের আগে মুশফিক নিজেই বলেছিলেন, “আমি একজন বিরক্তিকর মানুষ। প্রতিদিন একই কাজ বারবার করি।” প্রতিদিন সবার আগে অনুশীলনে আসা এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়া-এই অভ্যাসই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। সতীর্থরা একে একে বিদায় নিলেও অনুশীলনের হাজিরা খাতায় তার নামটি আজও সবার ওপরে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিক মানেই নির্ভরতার প্রতীক। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০১টি টেস্ট খেলার রেকর্ড তার দখলে। সাদা পোশাকে তিনি শুধু রান মেশিনই নন, বরং বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।

টেস্ট ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানও তিনি। ১৩টি সেঞ্চুরি ও ৩৮.৮০ গড়ে ৬৫৫৮ রান তাকে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা।

ওয়ানডেতে ২৭৪ ম্যাচে ৭৭৯৫ রান ও ৯টি সেঞ্চুরি বলে দেয় মিডল অর্ডারে তিনি কতটা অপরিহার্য ছিলেন। আর টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ১০২টি ম্যাচ।

গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে যেমন বিশ্বস্ত, ব্যাট হাতেও দলের বিপদে বারবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার নিখুঁত টেকনিক ও দৃঢ় ডিফেন্স দেখে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক তাকে শচীন টেন্ডুলকার-এর পরিশ্রমী প্রতিচ্ছবি হিসেবেও তুলনা করেন।

২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হয়। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ-এর ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে টেস্টে হারানোর স্মরণীয় সাফল্যও আসে তার নেতৃত্বে। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ৩৭টি ওয়ানডে, ৩৪টি টেস্ট এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার পেরিয়েও এই উইলোবাজ আজও সমান ক্ষুধার্ত। ‘পঞ্চপাণ্ডব’-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি কেবল একজন ক্রিকেটার নন, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button