ফাইনালে পাকিস্তান, বাদ পড়ল ভারত-আফগানিস্তান

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর এশিয়া কাপের রাউন্ড রবিনপর্বের চতুর্থ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। আফগানিস্তানের হারের মাধ্যমে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালের টিকিট পেল শ্রীলঙ্কাও। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১২৯ রান তুলে আফগানরা। জবাবে ১ উইকেট ও ৪ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের।
লো-স্কোরিং এই ম্যাচে বারবার ঘুরেছে ম্যাচের মোড়। কখনও মনে হয়েছে জয়ের পথে রয়েছে পাকিস্তান, আবার পরক্ষণে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে আফগানরা। বিশেষ করে শেষ কয়েক ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় নবি-রশিদরা। কিন্তু শেষ উইকেটে ও শেষ ওভারে টানা দুই ছয় হাকিয়ে পাকিস্তানকে এক দুর্দান্ত জয় উপহার দেন উদীয়মান ক্রিকেটার নাসিম শাহ।
বাবর আজমদের জয়ের মাধ্যমে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের। অবশ্য নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই অনেকটা ছিটকে গিয়েছিলো রোহিত শর্মা বাহিনী। এবার তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল। এদিকে টানা দুই ম্যাচ হারায় এশিয়া কাপ এবারের মতো শেষ হলো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নেওয়া আফগানিস্তানেরও।
আফগানদের দেয়া ১৩০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর ৮.৪ ওভারে দলীয় মাত্র ৪৫ রানে উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিদায়ের বিপদ বাড়ে শিরোপাপ্রত্যাশীদের। শূন্যরানে বাবর আজম, ৫ রানে ফকর জামান ও ব্যক্তিগত ২০ রানে আউট হয়েছেন বিশ্বের সেরা ব্যাটার রিজওয়ান।
তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকেন শাদাব খান ও ইফতেকার আহমেদ। এই দুজনের ৪২ রানের জুটিই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ৩৩ বলে ৩০ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ৩৬ রানে শাদাব, ১ রানে খুশদিল, ৪ রানে মোহাম্মদ নেওয়াজ, শূন্যরানে হ্যারিস রউফ ও ১৬ রানে আউট হন আসফি আলি। শেষদিকে মাত্র ৪ বলে ১৪ রান করে দলকে জয় এনে দেন নাসিম।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাট করার আমত্রণ জানান পাকিস্তানি দলনেতা বাবর আজম। দুই ওপেনারের কল্যাণে শুরুটা ভালো ছিল আফগানিস্তানের। ঝড়ো সূচনায় ওপেনিং জুটিতে আসে ৩৬ রান। ১১ বলে ১৭ রানে ফেরেন ওপেনাট রহমানুল্লাহ গুরবাজ। আরেক ওপেনার হজরতুল্লাহ জাজাই করেন ১৭ বলে ২১ রান।
পরের উইকেটে দেখে-শুনেই খেলছিলেন করিম জানাত ও ইব্রাহিম জাদরান। ১৫ রানে আউট হন করিম আর ৩৫ রান করে ফিরেছেন ইব্রাহিম। এরপরের ব্যাটাররা আর সুবিধা করতে পারেননি। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাট হাতে নাজিবুল্লাহ জাদরান ১০ ও মোহাম্মদ নবি আউট হন শূন্যরানেই। আর ১০ বলে ১০ রানে আজমতুল্লাহ ওমরজাই ও ১৫ বলে ১৭ রানে রশিদ খান অপরাজিত থাকেন।



