
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর থেকেই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। এবার নিজেই জানিয়ে দিলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে তার পথচলা শেষ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ গোলে হারায় সান্তোস। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
নেইমার বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন-সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।”
তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের অধ্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি টানলেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন থেকে তিনি পুরোপুরি ক্লাব ক্যারিয়ারেই মনোযোগ দিতে চান।
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করার পাশাপাশি ৫৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের একমাত্র শিরোপা আসে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে। এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতান তিনি।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার।
সেসময় তিনি বলেছিলেন, “বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।”
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে গুঞ্জন উঠেছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপেও হয়তো দেখা যেতে পারে তাকে। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় সব ধরনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের এই মহাতারকা।