প্রধান খবরসারাদেশ

বিশ্বে বায়ুদূষণে আবার শীর্ষে ঢাকা

বিশ্বে বায়ুদূষণে আবারও শীর্ষ অবস্থানে চলে এসেছে ঢাকা। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূষণের তালিকায় শীর্ষস্থানে ঢাকার সঙ্গে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ঢাকায় বায়ুর মান ছিল ২০৪, যা বায়ুমান সূচকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ঢাকায় বায়ুদূষণের উপাদান অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রায় ২৭ গুণ বেশি। গত শুক্র ও শনিবারও ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ ছিল। এই দুই দিন ঢাকায় বায়ুর মানের সূচক ছিল যথাক্রমে ১৭৫ ও ১৮৭। অস্বাস্থ্যকর বায়ুর মানের দিক দিয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে সার্বিয়ার বেলগ্রেড, পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র দিয়ে বায়ুর মান মাপা হয়।

বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পিপিএম-পার্টস পার মিলিয়ন) এককে। এসব বস্তুকণাকে ১০ মাইক্রোমিটার ও ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাস শ্রেণিতে ভাগ করে তার পরিমাণের ভিত্তিতে ঝুঁকি নিরূপণ করেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ (পিপিএম) যদি শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ু মানের সূচকে (একিউআই) ‘ভালো’ বলা যায়। এই মাত্রা ৫১-১০০ হলে বাতাসকে ‘মধ্যম’ মানের এবং ১০১-১৫০ হলে ‘বিপদসীমায়’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-৫০০ হলে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত ১৭ নভেম্বর বায়ু মান ছিল ৩৮৯। প্রবল দূষণের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় রাজ্য সরকার।

এক বছরে রাজধানী ঢাকা শহরে বায়ুদূষণ ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে বলে একটি যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বায়ুম-লীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ঢাকা শহরের ৭০টি স্থানের বায়ুদূষণের এই সমীক্ষা চালিয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আশপাশের এলাকায় দূষণ সবচেয়ে বেশি বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। আবাসিক এলাকা ধানম-ি, গুলশান, বাড্ডা ও বনানীতে দূষণের মাত্রা বেড়েছে ‘আশঙ্কাজনকভাবে’।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা ২.৫-এর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এটি সাধারণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো অর্থাৎ যানবাহন, শিল্পকারখানা ও বর্জ্য পোড়ানো থেকে সৃষ্টি হয়। তবে নির্মাণকাজ হতে সৃষ্ট ধুলাবালি রাস্তার গাড়ির চাকার সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণায় রূপান্তরিত হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, ঢাকার এমন বায়ু স্বাস্থ্যের ওপর নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। ফুসফুসের নানা রোগ, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছে ঢাকাবাসী।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button