বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ার মসলার বাজারে দাম কমায় লোকসানে আমদানিকারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত মসলার বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এবার বগুড়ার পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মসলার মোকাম রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজারসহ আশপাশের পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই কমেছে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম। এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে, তবে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন বৈধ আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় মসলা প্রবেশ করায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলার দাম কমে গেছে।

বগুড়া জেলা মসলা আমদানিকারক সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, “গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার মসলার দাম সবচেয়ে কম। যারা অবৈধ পথে মসলা আনছে, তারা কোনো শুল্ক বা কর দিচ্ছে না। ফলে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছে। অন্যদিকে বৈধভাবে এলসি খুলে আমদানি করা ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন।”

তিনি জানান, মসলাজাতীয় পণ্যের ওপর সরকারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করায় সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারে আসার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী এসএম ইন্টারপ্রাইজের মো. সিহাব উদ্দিন জানান, গত বছরের কোরবানির ঈদের তুলনায় এবার বিভিন্ন মসলার দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

তিনি বলেন, “৩০ কেজির এক বস্তা জিরা আমদানিতে সরকারকে প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকা কর দিতে হয়। কিন্তু অবৈধ পথে আসা পণ্য কম দামে বিক্রি হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে জিরার দাম ছিল প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। একইভাবে লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ ও এলাচের দামেও বড় ধরনের পতন হয়েছে।

সাদা এলাচের বাজার নিয়েও হতাশ ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ৭৬ আকারের সাদা এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকায়, ৭৮ আকারের এলাচ ৪ হাজার ৫০০ টাকায় এবং বড় আকারের এলাচ প্রায় ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এসব পণ্যে কেজিপ্রতি গড়ে ৫০০ টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মসলা দেশে প্রবেশ করছে। এসব পণ্য সরাসরি স্থানীয় মোকাম ও পাইকারি বাজারে চলে আসায় বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা। যদিও খুচরা বাজারে এখনো পুরোপুরি প্রভাব পড়েনি, তবুও আগের তুলনায় কম দামে প্রয়োজনীয় মসলা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়া বলেন, “কোরবানির ঈদে মাংস বেশি হওয়ায় মসলার চাহিদাও বেশি থাকে। এবার পেঁয়াজ, রসুনসহ বেশিরভাগ মসলার দাম স্বাভাবিক থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারব।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়। কিন্তু এবার অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। তাদের অভিযোগ, ঢাকার বাজারে অবৈধ মসলা প্রবেশের প্রভাব দেশের অন্যান্য বাজারেও পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, অবৈধ আমদানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৈধ আমদানিকারকদের জন্য যৌক্তিক শুল্ক ও কর কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বাজার তদারকি বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button