বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার কাঠামো সম্প্রসারণ, যুক্ত হচ্ছে চার নতুন ইউনিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ‘স্বর্ণগ্রাম’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দীগন্ত’ নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘মীরবাড়ি’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে মোকামতলা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মোকামতলা ইউনিয়নকে বিভক্ত করে একটি আধুনিক পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা ভবিষ্যতে আটটি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিয়ে পরিচালিত হবে।

গেজেট অনুযায়ী, বৃহৎ ময়দানহাট্টা ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন ইউনিয়নের আওতায় এসেছে পলাশী, হাটগাড়ী, গোকর্ণ, চন্দ্রহাটা, কচুয়া, গাথিলা গোপালপুর, ধাওয়াকান্দি, উত্তর কৃষ্টপুর, ছোবাহানপুর, কালুগাড়ী, ময়দানহাট্টা, দাড়িদহ, নিয়ামতপুর, বাগলপুর, চকবাগলপুর, খোর্দ্দ শোকড়া ও বুজরুক শোকড়া গ্রাম।

মোট ১৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতেই ইউনিয়নটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং স্থানীয় জনগণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয় বিবেচনায় ‘সীমান্ত’ ও ‘দীগন্ত’ নামে আরও দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো এবং ভোগান্তির শিকার হতে হতো। নতুন ইউনিয়ন গঠনের ফলে এসব সেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে বলে তারা আশা করছেন।

একই প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘মীরবাড়ি’ নামে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন ইউনিয়ন গঠনের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়বে এবং সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতি এবং জনসেবার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “মোকামতলা উপজেলাকে একটি আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে মোকামতলা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নগরসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

নতুন ইউনিয়ন ও প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তবে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ এবং দ্রুত প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়ে কিছু প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই বগুড়ায় নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা এবং একাধিক ইউনিয়ন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

তবে তিনি আরও বলেন, “নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে নামকরণ করা হলে বিষয়টি আরও গ্রহণযোগ্য হতো।”

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button