আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটে: ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি

বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফাতিহ বিরোল বলেন, বিশ্ববাজার থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ হারিয়ে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তার মতে, এই সংকটের ফলে পারমাণবিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়তে পারে। তবে কিছু দেশে, বিশেষ করে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোতে, কয়লার ব্যবহারও আবার বাড়তে পারে।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর নিষেধাজ্ঞার কারণে জলপথটি কার্যত দ্বৈত অবরোধে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইইএ সতর্ক করে বলেছে, এ পথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং জ্বালানি রেশনিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ইউরোপে জেট ফুয়েলের ঘাটতি আসন্ন বলেও সতর্ক করেন বিরোল। তিনি বলেন, ইউরোপ-এর প্রায় ৭৫ শতাংশ জেট ফুয়েল মধ্যপ্রাচ্যের রিফাইনারি থেকে আসে, যা এখন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

তিনি জানান, ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে জেট ফুয়েল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত আমদানি নিশ্চিত করা না গেলে ইউরোপ সমস্যায় পড়বে।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে রপ্তানি পুনরায় শুরু হবে। প্রয়োজনে ইউরোপে বিমান ভ্রমণও কমানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৩২ সদস্যের আইইএ মার্চ মাসে জরুরি মজুত থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। তবে বিরোল বলেন, এটি কেবল চাপ কমাবে, মূল সমস্যার সমাধান নয়। প্রকৃত সমাধান হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।

তথ্যসূত্র: যমুনা নিউজ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button