আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

তীব্র গরমে জাপানের ‘মানব ফ্রিজ’, ২০ মিনিটেই শরীর ঠান্ডা করার দাবি

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে জাপান। আর এই গরম মোকাবিলায় দেশটিতে তৈরি হয়েছে অভিনব ‘মানব ফ্রিজ’। ‘দো হিয়েমন বক্স’ নামের এই পোর্টেবল কুলিং বুথ দ্রুতই হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের একটি আলোচিত প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে রেফ্রিজারেশন ও ভেন্ডিং মেশিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসডিআরএস বাণিজ্যিকভাবে ‘দো হিয়েমন বক্স’ বাজারে আনে। বর্তমানে এটি বিতরণ করছে শিল্প সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাসকো নাকায়ামা কর্পোরেশন। স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এই বুথের লক্ষ্য হলো প্রচণ্ড গরমের সময় দ্রুত মানুষের শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনা।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনকে ‘কোকুশোবি’ হিসেবে বর্ণনা করে। এর অর্থ ‘নৃশংস তাপদায়ক দিন’। জুলাইয়ের শেষ দিকে জাপানে টানা পাঁচ দিন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। শুধু টোকিওতেই তীব্র তাপজনিত অসুস্থতায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৫০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

যেভাবে কাজ করে ‘মানব ফ্রিজ’

‘দো হিয়েমন বক্স’-এর প্রযুক্তি মূলত জাপানে ব্যবহৃত হিমায়িত খাবারের ভেন্ডিং মেশিন থেকে নেওয়া হয়েছে। এসডিআরএস তাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনসুলেশন ও কুলিং প্রযুক্তিকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী একটি চেম্বারে রূপান্তর করেছে।

পুরো একটি ঘর ঠান্ডা করার পরিবর্তে বুথটির ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। ব্যবহারকারী ভেতরে বসার পর উচ্চগতির ভেন্ট থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঠান্ডা বাতাস মাথা, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের ওপরের অংশে প্রবাহিত হয়।

শরীরের এসব অংশে বড় রক্তনালী ত্বকের কাছাকাছি থাকায় সেখানে ঠান্ডা বাতাস প্রয়োগ করে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত ঠান্ডা ও আকস্মিক হাইপোথার্মিয়া এড়াতে এতে সুরক্ষাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রায় ২০ মিনিট পর ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

কেন দ্রুত ঠান্ডা করা হচ্ছে শরীর?

চরম গরমে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘাম ও ত্বকের রক্তনালীর প্রসারণের ওপর নির্ভর করে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এতে কার্ডিওভাসকুলার চাপ বাড়তে পারে।

‘দো হিয়েমন বক্স’-এ ঘাড়সহ শরীরের নির্দিষ্ট অংশে ঠান্ডা বাতাস প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শরীরের তাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসডিআরএসের ক্লিনিকাল সমীক্ষার দাবি অনুযায়ী, পাঁচ মিনিটের সেশনেই শারীরিক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে এবং ১০ মিনিটের অবস্থানে শরীর কাঁপানো ছাড়াই তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ফল পাওয়া গেছে।

দাম প্রায় ১১ লাখ টাকা

জাপানের এই আলোচিত ‘মানব ফ্রিজ’-এর দাম প্রায় ৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

তবে আপাতত এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের জন্য নয়। বিতরণকারী ট্রাসকো নাকায়ামা মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চল এবং সরকারি সংস্থার কাছে এটি সরবরাহ করছে।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button