
পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
সোমবার (১২ এপ্রিল) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি প্রতি বছর নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে। নতুন বছর পুরনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং ঐক্যবোধ জাগ্রত করে। তিনি সবাইকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
আজ উদ্বোধন হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছাবেন। এরপর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর কবর জিয়ারত করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। পরে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন শেষে দুপুরের পর ঢাকায় ফিরবেন।
দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম চালু হচ্ছে। উপজেলাগুলো হলো-টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে তিন ধাপে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ খাতের উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম ধাপে অংশ নেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, ট্রান্সকম গ্রুপ, কাজী ফার্মস ও ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ধাপে আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপ, লাল তীর সিডস ও প্যারাগন গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তৃতীয় ধাপে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকগুলোতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ



