
শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোনও মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা আহত হলে আমি দুঃখিত।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে ১৩ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বন্যার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।” সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ওই কথোপকথন হয়। শিক্ষার্থীর অভিভাবক মন্ত্রীকে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে একই ইস্যুতে মঙ্গলবার রাজধানীতে আন্দোলন চালিয়ে যান বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট পর অবরোধ তুলে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যান। পরে পুলিশ সেখান থেকে সরে যেতে বললে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে কিছু সময় অবস্থান করেন।
দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে দ্বিতীয় দফায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এরপর তারা জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। আসাদ গেট এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার গেটের সামনে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪
