রাজনীতি
প্রধান খবর

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদক তদন্ত ও বিচার দাবি ছাত্রদলের

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-এর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মসহ তিন দফা দাবিতে সোমবার (১৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন আসিফ মাহমুদ’

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন,
“আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হয়ে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। তার দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তিনি নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানি দেখাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান-এভাবে হুমকি দেওয়া চলবে না। ছাত্রদল এসব হুমকিতে ভয় পায় না।”

তিনি আরও জানান, তিনটি পৃথক ইস্যুতে ছাত্রদল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে এবং আগের দিন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তারা।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন,
“২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের বাসায় ব্যালট রেখেছিল। দুঃখজনকভাবে ২০২৬ সালে এসে আমরা জামায়াতের বাসাবাড়িতে ব্যালট দেখতে পাচ্ছি। এটি আবারও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”

তিনি দাবি করেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তা দূর করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ব্যালট কীভাবে বাসাবাড়িতে পৌঁছেছে-সে বিষয়ে কমিশন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন,
“নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারী কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পাবেন না। হৃদপিণ্ড শক্ত রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।”

শাবিপ্রবির ভিসির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্রদল নেতা।

তিনি বলেন,
“ভিসি কীভাবে এত মিথ্যা কথা বলেন, আমরা বিস্মিত। গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সেই চিঠির বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি।”

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওই চিঠির বিষয়টি গোপনে ছাত্রশিবিরকে অবহিত করা হয়। পরে উপাচার্য ঢাকায় এসে তদবির করে নতুন করে চিঠি রি-ইস্যু করান এবং ২০ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছয় দিন কোনো প্যানেলই প্রচারণা চালাতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“প্রচার-প্রচারণা ছাড়া কীভাবে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন সম্ভব?”

নির্বাচন কমিটি ভেঙে পড়েছে: ছাত্রদল

নাছির উদ্দীন নাছির জানান, শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন পদত্যাগ করেছেন। এ অবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্যের পক্ষে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা

সবশেষে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন,
“আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, দুদক তদন্ত এবং শাবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাত পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button